Conspiracy Theory লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Conspiracy Theory লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

খাদ্যশস্য বাছল কে?

 

হ্যাঁ, আজকের এ লেখার বিষয় খাওয়া। বেঁচে থাকবার জন্য আমাদের খেতে হয়, আবার খাওয়ার সাথে জীভের রসাস্বাদনও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা কি খাই তার যদি আমি তালিকা তৈরি করবার চেষ্টা করি তো সে এক বিশাল লিস্ট হয়ে যাবে- তাতে ফল, সবজি, মাছ-মাংস, মসলা কোন কিছুই বাদ পড়বে না। কিন্তু কি কি আমরা খাই না, বিশেষত কি কি ফল ও সবজি আমরা খাই না এর তালিকাও কিন্তু নেহাত কম ছোট হবে না। এর আগের একটি প্রবন্ধে আমি আলোচনা করেছিলাম যে নিয়ার ইস্ট প্রদেশে মানব সভ্যতার প্রথম চাষবাস শুরু হয় বলে বিজ্ঞজনদের ধারণা ( পড়ুন - ইডেন কি তবে…! ); প্রত্যেকটি উৎকৃষ্ট শশ্য, যেমন আপেল, ডুমুর, বাদাম, পেস্তা, আখরোট, ইত্যাদি প্রথম চাষ করা শুরু হয় সেই নিয়ার ইস্ট প্রদেশেই। তবে অ্যানশিয়েন্ট অ্যাস্ট্রোনট থিওরিস্টদের সন্দেহ উপেক্ষা করে আমরা ধরে নিচ্ছি যে পৃথিবীর নানান খাদ্যোপযোগী এবং উৎকৃষ্ট শস্যের বিকাশ (অথবা আবিষ্কার) করার পেছনে প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর কোনও প্রজাতির ভূমিকা ছিল না- যা হয়েছে, আমরা যেমনটা মনে করি তেমন, প্রাকৃতিকভাবেই হয়েছে; নিয়ার ইস্ট প্রদেশের তেমন কোনওই বিশেষত্ব নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে আমার নিজস্ব একটি প্রশ্ন বা সন্দেহ রয়েছে। তবে সে প্রশ্ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবার আগে একটি ব্যাপারে একটু লিখতে চাই-

 

খাদ্যশস্য বাছল কে?

 অদ্ভুত ফল ‘ফক্স হেড’ (Image Source- Wikipedia)


আরও পড়ুন- পিরি রেইস এর রহস্যময় মানচিত্র- এ তবে এঁকেছিল কে?

অথবা দেখুন- আমার আঁকা কার্টুন- ইংলিশ রক ব্যান্ডদি বিটলস


আমাদের খাদ্যোপযোগী শস্য 


এখানে ‘আমাদের’ বলতে আমি কিন্তু শুধুমাত্র আমাদের বাঙ্গালীদের, অথবা আমাদের ভারতীয়দের কথা বলছি না, আমি সমগ্র মানবজাতির কথাই বলছি- কারণ এমন অনেক শস্য বা ফলমূল আছে যা আমাদের দেশে পাওয়া যায় না, তাই আমরা ভারতীয়রা খাই না, কিন্তু যে দেশে হয় সেখানকার লোকেরা খান; বা তদ্বিপরীত ব্যাপারটাও হয়ে থাকে। তো আমাদের খাদ্যোপযোগী শস্যের লম্বা তালিকায় এমন অনেক নাম রয়েছে যা দেখতে একদমই ভালো নয়- যারা তা খায়নি কখনও, তাদের মনে সে শস্য দেখলে কখনোই তা খাবার ইচ্ছে হবে না; কিন্তু বাস্তবে তা খাদ্যোপযোগী এবং অত্যন্ত উপকারী। ইন্টারনেট ঘেঁটে আমি এমন কিছু শস্যের নাম ও ছবি জোগাড় করেছি-

 

খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- Wikipedia

ডুরিয়ান (Durian) - দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি ফলের প্রজাতি যা দেখতে একদমই ভালো নয়। অনেকে বলেন এই ফলের গন্ধ (বা দুর্গন্ধ!) নাকি ব্যবহৃত, নোংরা মোজার মত।





 

খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- Wikipedia

পিটায়া (Pitaya) - ক্যাকটাস এর একটি প্রজাতি যাকে ‘ড্র্যাগন ফ্রুট’ ও বলা হয়ে থাকে। ছবি দেখে তো একে মোটেই সুখাদ্য বলে মনে হচ্ছে না, কিন্তু এটা খাওয়া হয়।



 



খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- Wikipedia

হর্নড মেলন (Horned Melon) - মূলত আফ্রিকান ফল, তবে ক্যালিফোর্নিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি দেশেও পাওয়া যায় এবং সেখানকার অধিবাসীরা উৎসাহের সাথে খেয়ে থাকেন।


 


খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- Wikipedia

বুদ্ধের হাত (Buddha’s Hand) - এ ফল দেখতে অতি কদাকার হলেও এর গন্ধ খুবই সুন্দর এবং চীন ও জাপানে এর খুব ব্যবহার এবং প্রচলন।





 

খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- Wikipedia

নোনী ফল (Noni Fruit) - পুরো এশিয়া জুড়ে প্রাপ্ত এ ফল দেখতে কদাকার কিন্তু এর বড়ই উপকার। এটি মূলত কফি ফ্যামিলির ফল।

 




খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- Wikipedia

ডালসি (Dulse) - আদপে এক ধরনের অ্যালগি, কিন্তু সবজি হিসেবে নানা জায়গায় খাওয়া হয়ে থাকে। আইল্যান্ড এর লোকেরা একে বাটার মাখিয়ে খায়।

 

আরও পড়ুন- কি ছিল ইডেন? মানবসভ্যতার সব রহস্য কি তবে লুকিয়ে আছে এখানেই?

অথবা দেখুন- আমার আঁকা কার্টুন- অভিনেতা সোনু সুদ


ফল ও সবজি যা খেলেই ক্ষতি

 

এবারে আসি একদমই উল্টো প্রকারের শস্যের কথায়। সারা পৃথিবী জুড়ে এমন প্রচুর ফলমূল রয়েছে যা দেখতে খুবই সুন্দর, দেখলেই খেতে ইচ্ছে করবে; কিন্তু সাবধান, ওসব খেলেই ক্ষতি, এমনকি যেতেও পারেন মারা! এবারে আমরা দেখব তেমনই কিছু ফলমূল যা দেখতে ভাল, কিন্তু তা খাদ্য নয়-

 

খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- Plants Database

স্ট্রিচনিন (Strychnine) - সুন্দর দেখতে এই ফলের গাছ মূলত অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া যায়। কিন্তু এর ফল এতটাই বিষাক্ত যে এ দিয়ে ইঁদুর মারার বিষ তৈরি করা হয়।





 

খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- F.A.O.

জাট্রোফা (Jatropha) - সুন্দর এই ফলের গাছ পুরো পৃথিবীতে পাওয়া যায়। এর সুন্দর, হলদে, মিষ্টি ফলে রিচিন (Ricin) নামের এক বিষাক্ত পদার্থ থাকে যার কারণে বমি, ডায়রিয়া থেকে কিডনি নষ্ট অবধি হতে পারে।

 




খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- Wikipedia

ইউরোপিয়ান স্পিন্ডল (European Spindle) - মনোরম এই গাছের সুন্দর ফুল ও ফলে নানারকম বিষাক্ত পদার্থ থাকে যার ফলে নানান শারীরিক অসুবিধে ও মৃত্যুও হতে পারে।

 




খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- Wikipedia

ম্যাঞ্চিনিল বিচ অ্যাপেল (Manchineel Beach Apple) - গিনেস বুকে ‘পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ঙ্কর গাছ’ বলে উল্লেখিত ফ্লোরিডা ও ক্যারিবিয়ান প্রদেশের এই গাছে সবুজ ও মিষ্টি এক ধরনের আপেল হয় যা খেলে মৃত্যুও হতে পারে। একে ‘ছোট মৃত্যুর আপেল’ ও বলা হয়ে থাকে।

 



খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- Wikipedia

মেজেরিয়াম (Mezereum) - ইউরোপ এবং দক্ষিণ এশিয়ার এই গাছের ফল খুবই লোভনীয়- অনেকটা চেরির মতো দেখতে। কিন্তু এর ফল খুবই বিষাক্ত, এমনকি এর ডাল ধরলেও হাতে চুলকুনি, জ্বালা ও র‍্যাশ হয়ে যেতে পারে।



 




খাদ্যশস্য বাছল কে?
Image Source- Wikipedia

হোলি (Holly) - এ গাছের লাল লাল ফল দেখলেও চেরির কথা মনে পড়ে যায়, কিন্তু খেলে বমি ও পেট খারাপ হয়ে থাকে। এই ফল কুড়িটির বেশি খাওয়ার ফলে শিশুদের প্রাণহানির আশঙ্কা হতে পারে।

 



আরও পড়ুন- পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসের নানান মানবসভ্যতা

অথবা দেখুন- আমার আঁকা কার্টুন- গায়ক এল্টন জন


কিছু কথা...

 

আমরা দেখলাম সারাটা পৃথিবী জুড়ে যেমন প্রচুর এমন শস্য, ফল-সবজি ইত্যাদি রয়েছে যা মানুষের খাদ্যোপযোগী, আবার এমনও অনেক প্রজাতি রয়েছে যা খেলে মানুষের ক্ষতি তো বটেই, মৃত্যুও হতে পারে। কিছু ফল ও সবজি এমন রয়েছে যা দেখলে আর যাই হোক আপনার তা খাবার কথা মনে হবে না, অথচ তা খেলে আপনার উপকার। আবার এমনও কিছু ফলমূল রয়েছে যা দেখলে আপনার খেয়ে দেখতে ইচ্ছে করবে, কিন্তু খবরদার, তাতে আপনার ক্ষতি!

 

এমন সব কান্ড-কারখানা দেখে আমার মনে প্রশ্ন জাগে যে মানুষ কিভাবে জানলো যে কোন শস্য তার খাদ্য ও কোনটা তার খাদ্য নয়? কোনও কোনও ফল এমনও রয়েছে যা এমনিতে খেলে বিষাক্ত, কিন্তু সামান্য প্রসেসিং এর পরেই তা সুখাদ্য হয়ে যায়- যেমন কাজুবাদাম। ভাবুন না, আমরা যদি একবার জানি যে ‘অমুক গাছের ফল খেলে আমার ক্ষতি হচ্ছে’, সেটাকে তো আর ভেজে বা রোস্ট করে খেয়ে দেখতে যাব না। তবে বিশেষ কিছু ফলের বেলায় আমরা এমন কেন করি? আমেরিকান প্রদেশে ফক্স হেড (Fox Head) নামের এক অদ্ভুতদর্শন ফল হয় যা এমনিতে বিষাক্ত, কিন্তু সেখানকার লোকেরা কাঁচা অবস্থায় (পেকে যাবার আগে) তা খায়, কারণ সে সময় তাতে বিষ থাকে না। এ কথা তাদের কে বলল? আমরা কি কোনওদিন ধুতরা ফল রোস্ট করে খেয়ে দেখতে গিয়েছি যে তখন তা শরীরের কোনও ক্ষতি করে কি না? এখন না হয় আমাদের পরীক্ষাগার আছে যেখানে এসব পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া যায়, কিন্তু এসব প্রথা তো কয়েকশো অথবা হাজার বছর ধরে চলে আসছে (সুমেরীয়রাও ভেড়ার মাংস রোস্ট করে বিয়ার দিয়ে খেত), তখন তাদের এসব কে বলে দিল? এমন অনেক প্রশ্ন আছে যার কোনও উত্তর নেই।

 

আরও পড়ুন- বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর সব রহস্য জানতে পারবেন এখানে

অথবা দেখুন- একটি মজাদার কমিকস সিরিজ- গোদামপুরের চিকেরাম



<<Previous Article          <Main Introductory Page>          Next Article>>

মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নানান মানবসভ্যতা

ছেলেবেলায় মিশর সম্পর্কিত সিনেমাগুলিতে মমি, পিরামিড, মরুভূমি ইত্যাদি দেখে দেখে ধারণা হয়েছিল যে ইজিপ্টে গেলেই বুঝি এসব দেখা যায়- সেখানে মানুষ কম, সারাটা শরীরে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে মমিরাই ঘুরে বেড়ায়; দু-চার জন জ্যান্ত মানুষ-টানুষ যারা আছেন তারাও ওই পিরামিড এরই আশেপাশে বাসা বানিয়ে থাকেন। এক কথায়, আমার একটা ধারণা হয়েছিল যে মিশর, ইজিপ্ট এসব মানেই শুধু মমি আর পিরামিড। একটু বড় হবার পর কিছু বইপত্তর জুটলো, তখন ইজিপ্ট সম্বন্ধে ধারণাটা আরও একটু পরিষ্কার হল- জানলাম যে মিশরে পৃথিবীর প্রাচীনতম মানবসভ্যতাগুলির একটা বিবর্তিত হয়েছিল; জানলাম নানা মিশরীয় দেবী দেবতা সম্বন্ধে; জানলাম বেশ কিছু মিশরীয় ফারাও বা রাজা সম্বন্ধে; জানলাম তুতানখামেন, আখেনাটেন, নেফারতিতি, এদের নাম; জানলাম হিয়েরোগ্লিফিক্স এর কথা। সে বয়সে হিয়েরোগ্লিফিক্স ব্যাপারটা আমায় এতটাই প্রভাবিত করেছিল যেমিশর রহস্যর কাকাবাবুর মত আমিও সে ভাষা শিখে ফেলবার চেষ্টা করেছিলাম, যদিও তা আর আমার ক্যালিতে কুলিয়ে ওঠেনি। এ অবধি তাও ঠিক ছিল, কিন্তু একটা বদ্ধমূল ভুল ধারণা আমার মনে জন্মেছিল যে প্রাচীন মানব সভ্যতা মানেই ইজিপ্ট। আরও কিছু পরে, যখন ইন্টারনেট ব্যাপারটা সহজলভ্য হলো, তখন জানলাম যে ইজিপ্ট এর আগেও বেশ কিছু মানবসভ্যতা হয়েছে, যেমন সুমের; এবং তাদের মধ্যে একটি তো আমার নিজের দেশেই হয়েছে- সিন্ধু সভ্যতা; এবং সেগুলোও কম আকর্ষক নয়, বরং ঠিকমতো জানতে পারলে কিছু বেশিই হবে।আকর্ষণকথাটা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ছোট থেকেইইতিহাসবিষয়টা আমার বিশেষ পছন্দের ছিল না- সেই মোঘল সাম্রাজ্য, ইংরেজ আমল, স্বাধীনতা সংগ্রাম, এসব পড়তে আমার একদমই ভালো লাগত না; কিন্তু যা আমার ভালো লাগত (কিন্তু বইয়ে খুব বেশি থাকত না) তাও যে ইতিহাসই, তবে প্রাচীন ইতিহাস। মানব বিবর্তন, মানবজাতির সভ্য হওয়া, এবং নানা দেশে, নানা সময়ে, নানা মানবসভ্যতার ইতিহাস আমায় বরাবরই খুব খুবই আকর্ষণ করে।

 

হয়তো আমার মতই আরও অনেকে আছেন, মানবসভ্যতা শব্দটি শুনলেই যাদের চোখে পিরামিড, মমি, তুতানখামেন, ইত্যাদি ভেসে ওঠে। তাদের জন্যই এ লেখা। তাদের আমি জানাতে চাই পৃথিবীর নানান মানবসভ্যতার বিষয়ে; আমার মতই তাদেরও আকর্ষিত করতে চাই প্রাচীন ইতিহাসের প্রতি। তাছাড়া, অ্যানশিয়েন্ট এলিয়েন্স তত্ত্ব ভালোভাবে বুঝতে গেলেও নানা মানবসভ্যতা সম্পর্কে জানাটা খুব দরকারী। যারা অজানা রহস্যের কথা জানতে চান প্রাচীন ইতিহাস যে তাদের জন্য অমৃতভাণ্ড! মানবজাতির নানা অজানা রহস্য যে লুকিয়ে আছে সেখানেই।

 

আরও পড়ুন- কি ছিল ইডেন? মানবসভ্যতার সব রহস্য কি তবে লুকিয়ে আছে এখানেই?

অথবা পড়ুন- নানারকমের হাসির প্রকারভেদ নিয়ে রম্যরচনাহাসি ক্লাসিফিকেশান


আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে আসা সব মানবসভ্যতা নিয়ে আমি যদি লেখার চেষ্টা করি তবে তা যে কবে শেষ করে উঠতে পারব, বা আদৌ পারবও নাকি ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দেব, আমি বলতে পারছি না। তাই এখানে আমরা বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানবসভ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করব, যেমন সিন্ধু, মিশর, মায়া, চিন ইত্যাদি। আজ এই লেখায় তাদের অল্প বিবরণ দিয়ে শুরু করছি-

 

সুমেরীয় / মেসোপটামিয়ান সভ্যতা 

নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

এ সভ্যতার সময়কাল মোটামুটি ৩৫০০ BC থেকে ৫০০ BC ছিল যা বিস্তৃত ছিল বর্তমানের ইরাক, সিরিয়া ও তুর্কি জুড়ে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সুমের ছিল মানবজাতির প্রথম সভ্যতা। এসময় মানব চাষবাস, পশুপালন ইত্যাদি করা শুরু করে, শিল্পচর্চায় আরও উন্নত হয় এবং সুমেরীয়দের নিজস্ব লেখার পদ্ধতি ছিল, যা কিউনিফর্ম স্ক্রিপ্ট বলে পরিচিত।

 

সিন্ধু / ইন্ডাস ভ্যালী সভ্যতা

নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

৩৩০০ BC থেকে ১৯০০ BC সময়কাল জুড়ে এ সভ্যতা ছিল আমাদের দেশ ভারতবর্ষ, পাকিস্তান ও উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তান জুড়ে। সিন্ধু সভ্যতা পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্তৃত সভ্যতাগুলির মধ্যে একটি, যা ছিল ১.২৫ মিলিয়ন কিমির এক বিশাল ক্ষেত্র জুড়ে। পুরো সভ্যতাটি ছিল সিন্ধু নদের পাশবর্তী এলাকা জুড়ে, যেখানে ভূমি ছিল অত্যন্ত উর্বর। হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদরো এলাকায় প্রাপ্ত এ সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে জানা যায় যে এরা প্রযুক্তিগতভাবে অনেকটাই এগিয়ে ছিল।

  

আরও পড়ুন- বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর সব রহস্য জানতে পারবেন এখানে

অথবা পড়ুন- তথ্য অথবা নানা ধরনের ডাটা কি আপনি ভুলে যান? তবে এটা মিস করবেন না


প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা 

নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

সিন্ধু সভ্যতার মতই নীল নদের তীরে জুড়ে বিস্তৃত এই মিশরীয় সভ্যতার সময়কাল ছিল প্রায় ৩১৫০ BC থেকে ৩০ BCইজিপ্ট এর এই সভ্যতা ছিল অপূর্ব, যাকে সারা পৃথিবী চেনে পিরামিড, মমি এবং তাদের অত্যন্ত সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য। মিশরীয় সভ্যতার আনাচে-কানাচে আজও যে কত রহস্য লুকিয়ে আছে কেউ জানে না।

 

মায়া সভ্যতা

নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

জ্যোতির্বিদ্যায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ এই মায়া সভ্যতার সময়কাল ছিল ২৬০০ BC থেকে ৯০০ ADএর স্থান ছিল আজকের ইউকাতান, মেক্সিকো, গুয়াতেমালা এবং হন্ডুরাস এর আশেপাশের এলাকা জুড়ে। মধ্য আমেরিকার এই সভ্যতার মায়ান ক্যালেন্ডার এর কথা শোনেননি এমন লোক বোধহয় খুব কমই আছেন। অত্যন্ত রহস্যময় এই সভ্যতাতেও কিন্তু পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল।

 

প্রাচীন চীন সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

ইয়েলো রিভার ও ইয়াংজে এলাকায় বিস্তৃত চীন এর এই সুবিশাল সভ্যতার সময়কাল ছিল ১৬০০ BC থেকে ১০৪৬ BC অবধি। এই প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা, যাহান চায়নাবাইয়েলো রিভার সভ্যতানামেও পরিচিত, চীনের এক সুবিশাল এবং বিস্তৃত ইতিহাসের প্রারম্ভমাত্র। এ সময় চীন পৃথিবীকে কাগজ, সিল্ক ও কম্পাস এর মত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার দিয়েছে।

  

আরও পড়ুন- অ্যানসিয়েন্ট অ্যাস্ট্রনট থিয়োরিনিয়ে লেখাষড়যন্ত্রতত্ব

অথবা পড়ুন- বিবাহিত পুরুষদের জন্যে লেখা একটি রম্যগল্পরমণে? বুঝিবে শমনে


প্রাচীন গ্রীক সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

২৭০০ BC থেকে ৪৭৯ BC সময়কাল অবধি বিস্তৃত গ্রীস দেশের প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা মানবজাতির অত্যন্ত প্রভাবশালী সভ্যতাগুলির মধ্যে একটি ছিল। গ্রীকরা অলিম্পিক, গণতন্ত্র, সেনেট ইত্যাদির উদ্ভাবন করেছিল; তারা গণিত, প্রাণিবিদ্যা এবং পদার্থবিদ্যায়ও অত্যন্ত দক্ষ ছিল। এ সময় তাদের মাঝে সক্রেটিস, আর্কিমিডিস এবং অ্যারিস্টোটল এর মতন গুণী ব্যক্তিরা জন্ম নেন।

 

পারস্য সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

ইজিপ্ট থেকে তুর্কি এবং ইরান জুড়ে ৫৫০ BC থেকে ৩৩১ BC সময়কাল অবদি সমৃদ্ধ হয় পারস্য সভ্যতা।  যদিও এর সময়কাল খুবই স্বল্প হয়, কিন্তু তাদের সময়ে পারস্যেরা সবচাইতে শক্তিশালী সভ্যতা ছিল।

 





রোমান সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

৫৫০ BC থেকে ৪৬৫ AD  সময়কালে রোম এর রোমান সভ্যতা অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তারা তাদের রাজত্ব এক বিশাল ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত করে এবং ইতিহাসকে জুলিয়াস সিজার এর মত নেতা দেয়।

  

আরও পড়ুন- এরিখ ভন দানিকেন এর লেখার একটি বঙ্গানুবাদ- আমাদের মহাকাশযান অবতরন করল ভিনগ্রহে

অথবা পড়ুন- করোনা কালীন ভ্যাকসিন নিয়ে সেলফিদান এর প্রথা নিয়ে লেখা রম্যরচনাগট জ্যাবড্‌’


অ্যাজটেক সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

১৩৪৫ AD থেকে ১৫২১ AD জুড়ে মেক্সিকোতে অ্যাজটেক সভ্যতা গড়ে ওঠে যারা দক্ষিণ আমেরিকার ইনকাদের প্রায় সমসাময়িক ছিল।

 






ইনকা সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

১৪৩৮ AD থেকে ১৫৩২ AD অবধি দক্ষিণ আমেরিকার পেরু, চিলি এবং ইকুয়াডর ক্ষেত্রে গড়ে ওঠে শক্তিশালী ইনকা সভ্যতা। এরা সূর্যের উপাসক ছিল এবং তাদের রাজাকে সূর্যের পুত্র বাসাপা ইনকাবলতো।

 


ধীরে ধীরে আমরা এ সকল সভ্যতাকে নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবার চেষ্টা করব। 

  

আরও পড়ুন- ভূত কিসে হয়? বাংলা সাহিত্যে খুঁজে পাওয়া প্রেততত্বের নানা ধারনা জানুন

অথবা পড়ুন- ফেসমাস্ক এর ভাল ও মন্দ মিলিয়ে মিশিয়ে লেখা একটি রম্যরচনা


<<Previous Article          <Main Introductory Page>          Next Article>>