ফিচার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফিচার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১

গেছো ভূত

গেছো ভূত

 

ভুত-প্রেত রোজ রোজ এলে লোকে ভয় পেতেই পারে, তাই ভুত-প্রেত নিয়ে এখানে রোজ রোজ কাটাছেঁড়া করিনা। কিন্তু কিছুদিন আগেই ভূত চতুর্দশী চলে গেল- এদিন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ সহ যত শত সোশাল মিডিয়া রয়েছে, সর্বত্র দেখি ভূত-প্রেতের ছড়াছড়ি। এসব দেখেশুনে আমার ভেতরের প্রেতপ্রেমী ঋতম আমায় বলল, ‘আর কতদিন নির্ভূত হয়ে থাকবে? এবার তুমিও ভূত নিয়ে কিছু একটা লিখে ফেলো’। তা নিজের অন্তরমনের কথা তো আর উড়িয়ে দেওয়া যায়না, তাই ভাবলুম ‘বঙ্গ সাহিত্যে ভুতের রঙ্গ’কে আর এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাক। তো ভেবে চিন্তে ঠিক করলুম যে এবারের বিষয় হোক ‘গেছো ভূত’।


আরও পড়ুন - ভূত কিসে হয়? বাংলা সাহিত্যে খুঁজে পাওয়া প্রেততত্বের নানা ধারনা জানুন


নামটা শুনেই বুঝতে পারা যায় যে গেছো ভূত হচ্ছে এমন একটা ভূত যে গাছে থাকে। তা গেছো ভূত গাছে থাকে তো বুঝলুম, কিন্তু কেন সে গাছে থাকে, বা গাছে থাকলেই তার নাম গেছো ভূত হয়ে যাবে কেন তা আমি বহুদিন অবধি জানতুম না। কারণ সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ মহাশয় এর কল্যাণে এ খবরখানা অনেকদিন আগেই আমার জানা হয়ে গিয়েছিল যে ভূত মাত্রেই গাছে থাকে- ব্রহ্মদৈত্য বেলগাছে, পেত্নী শ্যাওড়া গাছে, কারিয়া পিরেত তালগাছে, ইত্যাদি। এছাড়া মানুষ মনুষ্যত্বের লেভেল পার করে ভূতত্ত্ব প্রাপ্ত করলেই সে বাস করবার জন্য একখানা গাছ খুঁজে নেয় (বিশ্বাস হচ্ছে না? ‘কেকরাডিহির বৃত্তান্ত’ পড়ে দেখুন)। তা এমনটাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে গেছো ভূতের স্পেশালিটিটা কোথায়? ছেলেবেলায় ভাবতুম বদমাইশি করলে মা যেমন আমায় বলতেন- ‘গেছো ছেলে একেবারে’, গেছো ভূতও হয়তো তেমনই ভূত সমাজের অত্যন্ত পাজি ভূত যে সারাটা দিন বদমাইশি করে বেড়ায় বলে গুরুভূতেরা তাকে ‘গেছো ভূত’ আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু পরে জানলুম যে কিস্‌সা কুছ অওর হি হ্যায়।

 

আরও পড়ুন - পড়ুন একটি মজাদার লেখা বিখ্যাত ভূতের রাজার ব্যাপারে


নানান পুঁথিপত্র, গাল-গল্প ও লোকগাথা থেকে জানা যায় যে-

 

গেছো ভূত হন তারা-

গাছে যান মারা যারা।

তারা থাকে গাছ-ডালে লট্‌কে-

আর দেন ঘাড়খানা মট্‌কে।

ওঠে নামে বেয়ে গাছ-কান্ড,

দেখে ফেললেই কাজ পণ্ড।

 

তো যেসব লোকের গাছে মৃত্যু হয় তারাই গেছো ভূত হন; কিন্তু গাছে কিভাবে একজনের মৃত্যু হতে পারে? গাছ তো আর কাউকে মেরে খেয়ে ফেলতে পারে না- তো গাছের ডালে যারা ফাঁসি-টাসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তারাই গেছো ভূত হন। এখন যেহেতু এমন কেস গ্রামে-গঞ্জেই বেশী হয়ে থাকে তাই গেছো ভূতেদের ঠিকানাও গাঁয়েই বেশী হয় (অবিশ্যি শহরে বিজলি বাতির কল্যাণে ভুত-প্রেত আর দেখা যায়ই কোথায়)। ভূতেদের মূল কাজ লোকেদের ভয় দেখানো- গেছো ভূতেরাও তা করে থাকে। কিন্তু কিভাবে?- আঁধার রাতে একলা কোনও ব্যক্তি যখন সেই অভিশপ্ত গাছ, যেখানে গেছো ভূতের বাস, তার পাশ দিয়ে যায়- তখনই গেছো ভূত টপ্‌ করে ফাঁসিস্থ হয়ে গাছ থেকে তার সামনে ঝুলে পড়ে। ব্যাস, কেল্লা ফতে, ভয়ের চোটে সে লোক মাথা ঘুরে সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। এছাড়াও শোনা যায় যে এরা গাছ বেয়ে সরসর করে ওঠানামা করে থাকে, এবং এ সময় তারা থাকে উল্টো, অর্থাৎ তাদের মাথা থাকে নিচে এবং পা থাকে ওপরে- অনেকটা টিকটিকির মতো। ওরে বাবা রে, কি ভয়ের ব্যাপার!

 

আরও পড়ুন - কারিয়া পিরেত এর নাম শুনেছেন? জানুন এই ভূতটির কথা



গেছো ভূত


আরও পড়ুন - ‘পেত্নী’ তো অনেককেই বলে থাকেন, ভাল করে তার কথা জানুন


গেছো ভূত এর নাম শুনলেই কেন জানিনা আমার গেছোদাদার কথা মনে পড়ে যায়। গেছোদাদাকে চিনতে পারছেন তো? সেই যে সুকুমার রায়ের ‘হযবরল’ গপ্পের রুমাল, যে হয়ে গিয়েছিল বেড়াল, গেছোদাদার কথা বলেছিল। যদিও তাকে ভূত বলে পরিচয় দেওয়া হয়নি, কিন্তু মশাই, তার মধ্যে কি কম ভূতত্ত্ব ছিল? সে যে কোথায় থাকে কিছুতেই জানা যায় না, তার সাথে দেখা হবারই জো নেই-

 

যদি যাই উলুবেড়ে-

তিনি থাকেন মতিহারি,

মতিহারি গেলেও তাকে

দেখতে আমি না পারি।

থাকবেন তিনি তখন

রামকিষ্টপুর-

কষ্ট করে গেলুম সেথা,

হয়ে গেলো দুপুর।

গিয়ে শুনি গেছেন তিনি

কাশিমবাজার-

গেছোদাদার সঙ্গে দেখা

হবার নেই যো আর।

 

এই যে ইচ্ছে থাকলেও, চেষ্টা করলেও, দেখা না পাওয়া- এ যে বেজায় ভূত-ভূত একটা গন্ধ, আর এ গন্ধটা খুবই সন্দেহজনক! তাই গেছোদাদার কথা শুনলেই আমার গেছো ভূত এর কথা মনে পড়ে যায়। তবে গেছোদাদা কি আসলেই গেছো ভূত? নাকি গেছোদাদা গেছোদাদাই, গেছো ভূত আলাদা- এ আমার জানা নেই। আপনি কি জানেন? তবে কষ্ট করে আমায় একটু জানিয়ে দেবেন। 

  

আরও পড়ুন - মেছোভূত এর কথা কতটা জানেন? জানুন।



<<Previous Article            <Main Introductory Page>            Next Article>>

মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নানান মানবসভ্যতা

ছেলেবেলায় মিশর সম্পর্কিত সিনেমাগুলিতে মমি, পিরামিড, মরুভূমি ইত্যাদি দেখে দেখে ধারণা হয়েছিল যে ইজিপ্টে গেলেই বুঝি এসব দেখা যায়- সেখানে মানুষ কম, সারাটা শরীরে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে মমিরাই ঘুরে বেড়ায়; দু-চার জন জ্যান্ত মানুষ-টানুষ যারা আছেন তারাও ওই পিরামিড এরই আশেপাশে বাসা বানিয়ে থাকেন। এক কথায়, আমার একটা ধারণা হয়েছিল যে মিশর, ইজিপ্ট এসব মানেই শুধু মমি আর পিরামিড। একটু বড় হবার পর কিছু বইপত্তর জুটলো, তখন ইজিপ্ট সম্বন্ধে ধারণাটা আরও একটু পরিষ্কার হল- জানলাম যে মিশরে পৃথিবীর প্রাচীনতম মানবসভ্যতাগুলির একটা বিবর্তিত হয়েছিল; জানলাম নানা মিশরীয় দেবী দেবতা সম্বন্ধে; জানলাম বেশ কিছু মিশরীয় ফারাও বা রাজা সম্বন্ধে; জানলাম তুতানখামেন, আখেনাটেন, নেফারতিতি, এদের নাম; জানলাম হিয়েরোগ্লিফিক্স এর কথা। সে বয়সে হিয়েরোগ্লিফিক্স ব্যাপারটা আমায় এতটাই প্রভাবিত করেছিল যেমিশর রহস্যর কাকাবাবুর মত আমিও সে ভাষা শিখে ফেলবার চেষ্টা করেছিলাম, যদিও তা আর আমার ক্যালিতে কুলিয়ে ওঠেনি। এ অবধি তাও ঠিক ছিল, কিন্তু একটা বদ্ধমূল ভুল ধারণা আমার মনে জন্মেছিল যে প্রাচীন মানব সভ্যতা মানেই ইজিপ্ট। আরও কিছু পরে, যখন ইন্টারনেট ব্যাপারটা সহজলভ্য হলো, তখন জানলাম যে ইজিপ্ট এর আগেও বেশ কিছু মানবসভ্যতা হয়েছে, যেমন সুমের; এবং তাদের মধ্যে একটি তো আমার নিজের দেশেই হয়েছে- সিন্ধু সভ্যতা; এবং সেগুলোও কম আকর্ষক নয়, বরং ঠিকমতো জানতে পারলে কিছু বেশিই হবে।আকর্ষণকথাটা লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ছোট থেকেইইতিহাসবিষয়টা আমার বিশেষ পছন্দের ছিল না- সেই মোঘল সাম্রাজ্য, ইংরেজ আমল, স্বাধীনতা সংগ্রাম, এসব পড়তে আমার একদমই ভালো লাগত না; কিন্তু যা আমার ভালো লাগত (কিন্তু বইয়ে খুব বেশি থাকত না) তাও যে ইতিহাসই, তবে প্রাচীন ইতিহাস। মানব বিবর্তন, মানবজাতির সভ্য হওয়া, এবং নানা দেশে, নানা সময়ে, নানা মানবসভ্যতার ইতিহাস আমায় বরাবরই খুব খুবই আকর্ষণ করে।

 

হয়তো আমার মতই আরও অনেকে আছেন, মানবসভ্যতা শব্দটি শুনলেই যাদের চোখে পিরামিড, মমি, তুতানখামেন, ইত্যাদি ভেসে ওঠে। তাদের জন্যই এ লেখা। তাদের আমি জানাতে চাই পৃথিবীর নানান মানবসভ্যতার বিষয়ে; আমার মতই তাদেরও আকর্ষিত করতে চাই প্রাচীন ইতিহাসের প্রতি। তাছাড়া, অ্যানশিয়েন্ট এলিয়েন্স তত্ত্ব ভালোভাবে বুঝতে গেলেও নানা মানবসভ্যতা সম্পর্কে জানাটা খুব দরকারী। যারা অজানা রহস্যের কথা জানতে চান প্রাচীন ইতিহাস যে তাদের জন্য অমৃতভাণ্ড! মানবজাতির নানা অজানা রহস্য যে লুকিয়ে আছে সেখানেই।

 

আরও পড়ুন- কি ছিল ইডেন? মানবসভ্যতার সব রহস্য কি তবে লুকিয়ে আছে এখানেই?

অথবা পড়ুন- নানারকমের হাসির প্রকারভেদ নিয়ে রম্যরচনাহাসি ক্লাসিফিকেশান


আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে আসা সব মানবসভ্যতা নিয়ে আমি যদি লেখার চেষ্টা করি তবে তা যে কবে শেষ করে উঠতে পারব, বা আদৌ পারবও নাকি ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দেব, আমি বলতে পারছি না। তাই এখানে আমরা বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানবসভ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করব, যেমন সিন্ধু, মিশর, মায়া, চিন ইত্যাদি। আজ এই লেখায় তাদের অল্প বিবরণ দিয়ে শুরু করছি-

 

সুমেরীয় / মেসোপটামিয়ান সভ্যতা 

নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

এ সভ্যতার সময়কাল মোটামুটি ৩৫০০ BC থেকে ৫০০ BC ছিল যা বিস্তৃত ছিল বর্তমানের ইরাক, সিরিয়া ও তুর্কি জুড়ে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সুমের ছিল মানবজাতির প্রথম সভ্যতা। এসময় মানব চাষবাস, পশুপালন ইত্যাদি করা শুরু করে, শিল্পচর্চায় আরও উন্নত হয় এবং সুমেরীয়দের নিজস্ব লেখার পদ্ধতি ছিল, যা কিউনিফর্ম স্ক্রিপ্ট বলে পরিচিত।

 

সিন্ধু / ইন্ডাস ভ্যালী সভ্যতা

নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

৩৩০০ BC থেকে ১৯০০ BC সময়কাল জুড়ে এ সভ্যতা ছিল আমাদের দেশ ভারতবর্ষ, পাকিস্তান ও উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তান জুড়ে। সিন্ধু সভ্যতা পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্তৃত সভ্যতাগুলির মধ্যে একটি, যা ছিল ১.২৫ মিলিয়ন কিমির এক বিশাল ক্ষেত্র জুড়ে। পুরো সভ্যতাটি ছিল সিন্ধু নদের পাশবর্তী এলাকা জুড়ে, যেখানে ভূমি ছিল অত্যন্ত উর্বর। হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদরো এলাকায় প্রাপ্ত এ সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে জানা যায় যে এরা প্রযুক্তিগতভাবে অনেকটাই এগিয়ে ছিল।

  

আরও পড়ুন- বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর সব রহস্য জানতে পারবেন এখানে

অথবা পড়ুন- তথ্য অথবা নানা ধরনের ডাটা কি আপনি ভুলে যান? তবে এটা মিস করবেন না


প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা 

নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

সিন্ধু সভ্যতার মতই নীল নদের তীরে জুড়ে বিস্তৃত এই মিশরীয় সভ্যতার সময়কাল ছিল প্রায় ৩১৫০ BC থেকে ৩০ BCইজিপ্ট এর এই সভ্যতা ছিল অপূর্ব, যাকে সারা পৃথিবী চেনে পিরামিড, মমি এবং তাদের অত্যন্ত সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য। মিশরীয় সভ্যতার আনাচে-কানাচে আজও যে কত রহস্য লুকিয়ে আছে কেউ জানে না।

 

মায়া সভ্যতা

নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

জ্যোতির্বিদ্যায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ এই মায়া সভ্যতার সময়কাল ছিল ২৬০০ BC থেকে ৯০০ ADএর স্থান ছিল আজকের ইউকাতান, মেক্সিকো, গুয়াতেমালা এবং হন্ডুরাস এর আশেপাশের এলাকা জুড়ে। মধ্য আমেরিকার এই সভ্যতার মায়ান ক্যালেন্ডার এর কথা শোনেননি এমন লোক বোধহয় খুব কমই আছেন। অত্যন্ত রহস্যময় এই সভ্যতাতেও কিন্তু পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল।

 

প্রাচীন চীন সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

ইয়েলো রিভার ও ইয়াংজে এলাকায় বিস্তৃত চীন এর এই সুবিশাল সভ্যতার সময়কাল ছিল ১৬০০ BC থেকে ১০৪৬ BC অবধি। এই প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা, যাহান চায়নাবাইয়েলো রিভার সভ্যতানামেও পরিচিত, চীনের এক সুবিশাল এবং বিস্তৃত ইতিহাসের প্রারম্ভমাত্র। এ সময় চীন পৃথিবীকে কাগজ, সিল্ক ও কম্পাস এর মত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার দিয়েছে।

  

আরও পড়ুন- অ্যানসিয়েন্ট অ্যাস্ট্রনট থিয়োরিনিয়ে লেখাষড়যন্ত্রতত্ব

অথবা পড়ুন- বিবাহিত পুরুষদের জন্যে লেখা একটি রম্যগল্পরমণে? বুঝিবে শমনে


প্রাচীন গ্রীক সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

২৭০০ BC থেকে ৪৭৯ BC সময়কাল অবধি বিস্তৃত গ্রীস দেশের প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা মানবজাতির অত্যন্ত প্রভাবশালী সভ্যতাগুলির মধ্যে একটি ছিল। গ্রীকরা অলিম্পিক, গণতন্ত্র, সেনেট ইত্যাদির উদ্ভাবন করেছিল; তারা গণিত, প্রাণিবিদ্যা এবং পদার্থবিদ্যায়ও অত্যন্ত দক্ষ ছিল। এ সময় তাদের মাঝে সক্রেটিস, আর্কিমিডিস এবং অ্যারিস্টোটল এর মতন গুণী ব্যক্তিরা জন্ম নেন।

 

পারস্য সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

ইজিপ্ট থেকে তুর্কি এবং ইরান জুড়ে ৫৫০ BC থেকে ৩৩১ BC সময়কাল অবদি সমৃদ্ধ হয় পারস্য সভ্যতা।  যদিও এর সময়কাল খুবই স্বল্প হয়, কিন্তু তাদের সময়ে পারস্যেরা সবচাইতে শক্তিশালী সভ্যতা ছিল।

 





রোমান সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

৫৫০ BC থেকে ৪৬৫ AD  সময়কালে রোম এর রোমান সভ্যতা অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তারা তাদের রাজত্ব এক বিশাল ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত করে এবং ইতিহাসকে জুলিয়াস সিজার এর মত নেতা দেয়।

  

আরও পড়ুন- এরিখ ভন দানিকেন এর লেখার একটি বঙ্গানুবাদ- আমাদের মহাকাশযান অবতরন করল ভিনগ্রহে

অথবা পড়ুন- করোনা কালীন ভ্যাকসিন নিয়ে সেলফিদান এর প্রথা নিয়ে লেখা রম্যরচনাগট জ্যাবড্‌’


অ্যাজটেক সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

১৩৪৫ AD থেকে ১৫২১ AD জুড়ে মেক্সিকোতে অ্যাজটেক সভ্যতা গড়ে ওঠে যারা দক্ষিণ আমেরিকার ইনকাদের প্রায় সমসাময়িক ছিল।

 






ইনকা সভ্যতা 
নানান মানবসভ্যতা
Source- Wikipedia

১৪৩৮ AD থেকে ১৫৩২ AD অবধি দক্ষিণ আমেরিকার পেরু, চিলি এবং ইকুয়াডর ক্ষেত্রে গড়ে ওঠে শক্তিশালী ইনকা সভ্যতা। এরা সূর্যের উপাসক ছিল এবং তাদের রাজাকে সূর্যের পুত্র বাসাপা ইনকাবলতো।

 


ধীরে ধীরে আমরা এ সকল সভ্যতাকে নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবার চেষ্টা করব। 

  

আরও পড়ুন- ভূত কিসে হয়? বাংলা সাহিত্যে খুঁজে পাওয়া প্রেততত্বের নানা ধারনা জানুন

অথবা পড়ুন- ফেসমাস্ক এর ভাল ও মন্দ মিলিয়ে মিশিয়ে লেখা একটি রম্যরচনা


<<Previous Article          <Main Introductory Page>          Next Article>>

মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

এ মানচিত্র তবে এঁকেছিল কে?

পিরি রেইস ম্যাপ

 

ম্যাপ বা মানচিত্র আঁকবার প্রথা আজকের নয়- ৬০০ খ্রিস্টপূর্বে ব্যাবিলন সভ্যতার নিদর্শন থেকে পাওয়া মাটির ট্যাবলেট এও মানচিত্র দেখা গিয়েছে যাতে ব্যাবিলনকে মধ্যস্থলে দেখানো হয়েছে, পাশ দিয়ে ইউফ্রেট্‌স নদী ও চারপাশে পাহাড় এবং সমুদ্র দেখানো হয়েছে। মিশরীয় সভ্যতাতেও মানচিত্রের ব্যবহার ছিল এবং চীনদেশেও সিল্কের ওপর আঁকা ম্যাপ পাওয়া গিয়েছে। গ্রীক ও রোমানদের মধ্যেও মানচিত্রের প্রচলন ছিল এবং তাদের মধ্যে টলেমির নাম উল্লেখ্য। টলেমি (ক্লদিয়াস টলেমিয়াস, ইংরিজিতে Ptolemy) রোমান ইজিপ্টের একজন ভৌগলিক, গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিদ ছিলেন যিনি সর্বপ্রথম মানচিত্রকে ল্যাটিটিউড ও লঙ্গিটিউড লাইন দ্বারা বিভক্ত করেন যে প্রথা আজও ব্যবহার হয়ে থাকে।

 

পিরি রেইস ম্যাপ
ব্যাবিলনিয়ান ওয়ার্ল্ড ম্যাপ (Source: Wikipedia)

কিন্তু বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এমন একখানা ম্যাপ খুঁজে পাওয়া যায় যা বিজ্ঞজনদের বেশ চিন্তায় ফেলে দেয়। ১৯২৯ সালে গাস্তাভ ডেইসম্যান নামের একজন জার্মান থিয়োলজিস্ট ইস্তানবুলের টপকাপি পালেস লাইব্রেরীতে খারিজ করে দেওয়া জিনিসপত্রের গাদায় হরিণের চামড়ার পার্চমেন্ট এ আঁকা একটি ম্যাপ খুঁজে পান। ডেইসম্যান দেখে অবাক হয়ে যান যে ম্যাচটিতে দক্ষিণ আমেরিকার আউটলাইন আঁকা রয়েছে। ১৫১৩ সালে তুর্কি কার্টোগ্রাফার হাজী আহমেদ মুহিদ্দিন পিরির আঁকা সেই পৃথিবীবিখ্যাত ম্যাপটিকে এখন সবাই পিরি রেইস বলে জানে।


আরও পড়ুন- ‘অ্যানসিয়েন্ট অ্যাস্ট্রনট থিয়োরি’ নিয়ে লেখা ‘ষড়যন্ত্রতত্ব

অথবা পড়ুন- নারীদের জন্য তাদেরই নিয়ে লেখা সুন্দর কবিতানারীর মর্যাদা


ম্যাপটি প্রথমে আমেরিকান কার্টোগ্রাফার আর্লিংটন এইচ ম্যালারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনি লক্ষ্য করেন যে ম্যাপটিতে সব সঠিক তথ্যই দেওয়া রয়েছে, কিন্তু কোনটাই তার সঠিক জায়গায় আঁকা নেই। ম্যালারে এবং মার্কিন নৌসেনার কার্টোগ্রাফার ওয়াল্টার্স মিলে ম্যাপটিকে গ্রিড এর মাধ্যমে একটি গ্লোব এর ওপর ফেলে একটি বড়ই অদ্ভুত জিনিস আবিষ্কার করেন- যে ম্যাপটি একদমই নিখুঁত। ম্যাপটি শুধুমাত্র মহাদেশগুলিকেই দেখায় না, তাতে নানান পর্বতমালা, দ্বীপ, নদী ইত্যাদিও নিখুঁতভাবে আঁকা রয়েছে।

 

পিরি রেইস ম্যাপ
পিরি রেইস ম্যাপ (Source: Wikipedia)

এই অবধি পড়ে আপনারা হয়ত মনে করছেন এ আর নতুন কি, ম্যাপে যদি সব নিখুঁতভাবে না আঁকা হয় তবে তা আর কেমন ম্যাপ? হক কথা, তবে এই ম্যাপটির বিষয়ে কটা ব্যাপার জেনে রাখা দরকার-

 

আরও পড়ুন- এরিখ ভন দানিকেন এর লেখার একটি বঙ্গানুবাদ- আমাদের মহাকাশযান অবতরন করল ভিনগ্রহে 
অথবা পড়ুন- সামাজিক অবস্থা নিয়ে লেখা সুন্দর কবিতাগাছের মত অত্যাচারিত মানুষ’ 


  • ম্যাপটিতে খুবই নিখুঁতভাবে অ্যান্টার্কটিকাকে দেখানো রয়েছে। কিন্তু ভাবার মতো ব্যাপারখানা এই যে তা হয়েছে আজকের মানবজাতি অ্যান্টার্কটিকা আবিষ্কার করবার প্রায় ৩০০ বছর আগে। তাছাড়া এই ম্যাপে শুধু অ্যান্টার্কটিকাকে দেখানোই হয়নি, তা আঁকা রয়েছে এমনভাবে যেমনটা হয়তো প্রায় ৬০০০ বছর আগে তা আইস ক্যাপে ঢেকে যাবার আগে ছিল। এত পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিখুঁত তথ্য সে সময় তিনি কোথায় ও কিভাবে পেলেন?

 

  • এছাড়া ১৯৬৫ সালে প্রফেসর চার্লস হ্যাপগুড তারম্যাপস্‌ অফ দি অ্যানসিয়েন্ট সি কিংসনামের বইয়ে উল্লেখ করেন যে পিরি রেইস ম্যাপটি আঁকা হয়েছিলমার্কেটর প্রজেকশানবলে একটি পদ্ধতিতে যা ইউরোপিয়ান কার্টোগ্রাফাররা ষোলশ শতাব্দীতে আবিষ্কার করেন। এ কিভাবে সম্ভব? একটি পদ্ধতি আবিষ্কৃত হবার আগেই পিরি কীভাবে তা ব্যবহার করলেন?

 

  • প্রফেসর হ্যাপগুড আরও বলেন যে ম্যাপটি আঁকা হয়েছিল এরিয়াল ফটোগ্রাফির সাহায্য নিয়ে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া একটি আধুনিক ফটোগ্রাফ, যা কায়রোর ওপর থেকে নেওয়া হয়, তার সাথে এ ম্যাপ এর অদ্ভুত মিল পাওয়া যায়- ফটোগ্রাফ এ কায়রোর আশেপাশে প্রায় পাঁচ হাজার মাইল ব্যাস অব্দি সব নিখুঁত আসে এবং তার পর থেকেই সব দেশ ও মহাদেশের ছবি বিকৃত (Distort) হতে থাকে (পৃথিবীর গোল আকারের জন্য)। পিরি রেইস ম্যাপেও ঠিক এমনটাই দেখা যায়- দক্ষিণ আমেরিকা এবং তার আশেপাশের এলাকাও সেখানে বিকৃত (Distorted)কিন্তু এ ম্যাপ যে সময় আঁকা তখনও তো মানব উড়তে শেখেনি, তবে এ কিভাবে সম্ভব?

 

আরও পড়ুন- বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর সব রহস্য জানতে পারবেন এখানে

অথবা পড়ুন- একটি সুন্দর কবিতা ‘সারপ্রাইজ


এসব তথ্য জানবার পর মাথায় একটাই চিন্তা এসে পড়ে- তবে কি কার্টোগ্রাফার পিরির কাছে তাঁর সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা কোনও প্রযুক্তিগত সুবিধা ছিল? কিন্তু তা কিভাবে সম্ভব? তবে তো এমনটাই মনে হয় যে এ ম্যাপ আঁকবার পেছনে উন্নততর কোনও সভ্যতার হাত ছিল যারা মানব সভ্যতার থেকে ছিল অনেক অনেকটাই এগিয়ে। হয়তো পিরি এ ম্যাপ নিজে আঁকেনই নি, হয়ত তিনি কোনও ম্যাপ কপি করেছিলেন, হয়তো পিরি রেইস ম্যাপ অন্য কোনও ম্যাপ এর নকলের নকলের নকল যা এঁকেছিল এমন কোনো উন্নত প্রজাতি যাদের আমরা অন্য কিছু বলে জানি। এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের কাছে নেই, শুধু প্রশ্নগুলোই আছে। উত্তর কি কখনও পাবো? জানিনা।


তথ্যসুত্র- 

  • এরিখ ভন দানিকেন এর 'চ্যারিয়ট অফ দি গডস'
  • ইন্টারনেট

 

আরও পড়ুন- কি ছিল ইডেন? মানবসভ্যতার সব রহস্য কি তবে লুকিয়ে আছে এখানেই?

অথবা পড়ুন- একটি শিশুর স্বপ্ন নিয়ে লেখা কবিতা ‘অলীক


<<Previous Article            <Main Introductory Page>            Next Article>>

মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১

মেছোভূতের দেখা পাওয়া

প্রেতেন্টারভিউ - মেছোভূতের দেখা পাওয়া

 

মাছ আমি খুব ভালো চিনিনে, এজন্য প্রায়ই গিন্নীর কাছে গঞ্জনা শুনতে হয়- বাঙালি হয়ে ভালো মাছ কিনে আনতে পারিনে বলে। আমার বাবা ও শ্বশুরমশাই মাঝেসাজে এ বিষয়ে আমায় জ্ঞান দেবার চেষ্টা করেছেন তবে বিশেষ কাজ হয়নি। কি করব, টিপিকাল বাঙালি বাবুর মত লুঙ্গি পরে সকালবেলা এক হাতে বাজারের থলে নিয়ে মাছের কানকো তুলে তার দোষ-গুণ সহ চৌদ্দগুষ্টির হিস্ট্রি খুঁজে আমি বের করতে পারিনা। অগত্যা যা হবার তাই হয়! তা সেদিন বাড়ী ফেরার পথে নদীর পাড়ে এক জেলের কাছে বেশ কমদামে বড়সড় একখানা লোকাল কাতলা মাছ পেয়ে গিয়েছিলাম, সাথে সহৃদয় এক ব্যক্তির দেখাও পাই যিনি সে মাছের ওই কানকো টানকো দেখে সার্টিফাই করে দিয়েছিলেন যে ও একদম এক নম্বর মাছ। তাই এক হাতে মাছ নিয়ে ঝোলা কাঁধে বেশ ফুরফুরে মনে বাড়ি ফিরছিলুম যে গিন্নীর কাছে আজ বেশ দর বাড়ানো যাবে। এসব ভাবতে ভাবতে অন্ধকার পথ দিয়ে বাড়ি ফিরছি হঠাৎ অনুভব করলুম কে যেন আমার পেছু নিয়েছে। থেমে গিয়ে পেছন ঘুরলুম-

 

আমি - কে আসছে পেছনে?

 

(কোনও উত্তর নেই)

 

আমি - আবার বলছি, কে আসছে পেছনে? ভালো হবে না কিন্তু বলে দিলুম।

 

(কোনও উত্তর নেই)

 

আমি - (ভাবলুম) তবে বোধহয় মনের ভুল।

 

(আবার পথ চলা শুরু করলুম, এবারে খানিকক্ষণ পর মাছের থলিখানা কে যেন টানতে লাগলো)

 

আমি - (ভাবলুম) কে আবার ব্যাগ টানে বাপু? চোর-ডাকাত হলে তারা তো মাছের থলি টানে বলে শুনিনি! উঁহু, এ তো অন্যরকম মনে হচ্ছে! গন্ধটা সন্দেহজনক!

(বললুম) কে বাপু থলে টানছো? ওতে টাকা পয়সা কিছুই নেই। শুধু একটা মাছ...

 

মেছোভূত - (অন্ধকার থেকে আওয়াজ আসে) ওরে আমায় একটু মাছ দিবিনে?

 

আমি - (ভাবলুম) মাছ চাইছে! এ তো মেছোভূত মনে হচ্ছে! না, একটু খেলিয়ে দেখি।

(বললুম) কে তুমি হে, কোনও মেছোভূত নাকি?

 

মেছোভূত - (অদৃশ্য থেকেই) তা ভুল বলিসনি। মাছ খেতে আমার বেজায় ভালো লাগে। হ্যাঁরে, তা আমায় একটু মাছ দিবিনে? বেজায় সুভাষ ছাড়ছে।

 

আমি - হ্যাঁ, তা তোমার দৃষ্টি যখন এতে পড়েছে, দিতে হবে বৈকি! কিন্তু দেবটা কাকে? কাউকেই যে দেখতে পাইনে! সামনে এসে দেখা দাও, তবে না দিতে পারি।

 

(অন্ধকার থেকে ধীরে ধীরে একজন লোক এগিয়ে এলো- খুবই লম্বা, বেজায় রোগা, হাত পা গুলো কাঠি কাঠি, কি পরে আছে বোঝা যাচ্ছে না)

 

মেছোভূত - নে, আসলুম, ভয় পাসনি, কিছু করবনাকো। দে, এবারে একটু মাছ দে রে বাবা।

 

আমি - শোনো, একটু নয়, তোমায় আমি গোটা মাছটাই দিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে।

 

মেছোভূত - গোটা মাছ? দিবি? দিবি? দিবি? বল, বল, কি করতে হবে? কি করতে হবে?

 

আমি - তেমন কিছু না, আমি তোমার এক ইন্টারভিউ নিতে চাই। মানে আমি তোমায় কিছু প্রশ্ন করব, তুমি ঠিক ঠিক তার জবাব দেবে। ব্যস্‌, তাহলেই আমি তোমায় এই গোটা মাছখানা দিয়ে দেবো। বলো রাজি?

 

মেছোভূত - রাজি। রাজি। রাজি। খুব রাজি। ওরে বাবা, একটা গোটা মাছ! বল, বল, কি প্রশ্ন বলবি বল।

 

আমি - এখানে নয়, চলো কোথাও গিয়ে বসা যাক।

 

(পথের ধারে একখানা গাছের তলায় দুজনে গিয়ে বসি)

 

আরও পড়ুন - বাংলা মজাদার নাটক 'চিতেন চোর'

অথবা পড়ুন - সামাজিক অবস্থা নিয়ে লেখা সুন্দর কবিতা ‘গাছের মত অত্যাচারিত মানুষ’


মেছোভূতের দেখা পাওয়া



আমি - শোনো, তুমি এক কাজ করো, মাছখানা নিয়েই নাও। তুমি যেমন ছোঁক ছোঁক করছো, নইলে তোমার ধৈর্যে কুলোবে না।

 

মেছোভূত - দে! দে! দে! দে! দে!

 

(মাছটা পেয়েই মেছোভূত হাপুস-হুপুস করে পুরো মাছটা খেয়ে ফেলে, একটু কাঁটাও অবশিষ্ট থাকে না)

 

আমি - এবারে বলো তোমার নাম কি?

 

মেছোভূত - হেঁ- হেঁ- হেঁ- আমার আবার নাম কি? মেছোভূত রে, মেছোভূত। আমাদের আলাদা কোনও নাম হয়না। কখনো ভূতেদের এমন নাম শুনেছিস- কালু মামদো, রাজু ব্রহ্মদত্তই, গবা মেছো অথবা রানী শাকচুন্নি? আমাদের নাম ওই ক্লাস দিয়েই বিচার করা হয়, আলাদা নাম থাকে না।

 

আমি - আচ্ছা, আচ্ছা, বুঝলাম, বুঝলাম। একটা প্রশ্নের উত্তর দাও, তুমি মেছোভূত হলে কি করে? মানে সবাই তো আর মারা গেলেই মেছোভূত হয় না, তুমি কেন হলে?

 

মেছোভূত - শোন, জীবদ্দশায় আমি থাকতুম ভেড়ভেড়ী গাঁয়ের এক কোণে এক ছোট্ট ঝুপড়িতে। তিনকূলে কেউ ছিলনা আমার, আমি একাই থাকতুম। আর কোনও নেশা-ভাংও করতুম না, থাকার মধ্যে নেশা ছিল দুটোই- মাছ ধরা আর মাছ খাওয়া, মাছ খেতে আমি খুব ভালবাসতুম। একদিন খবর পেলুম পাশের গাঁয়ের লালদীঘিতে বড় বড় মাছ ঘাই দিচ্ছে, ব্যাস্‌, ছিপ বড়শি নিয়ে চলে গেলুম। সেই দিনটা ছিল ভয়ের- মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছিল, সাথে বড় বড় বাজ। তা সত্বেও ছিপ নিয়ে গেলুম বসে। হঠাৎ কোথাও এক বিশাল বাজ পড়ল, তারপর আর কিছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরল দেখি পাশে আমার মরা শরীরটা। ব্যস্, তখন থেকে আমি মেছো। কেন হলুম, অন্য কিছু হলুম না কেন, অতশত জানিনা বাপু।

 

আমি - আচ্ছা, বেশ, বুঝলুম। এবারে বলো তোমার মানুষ জীবন বেশি ভালো ছিল নাকি এই ভূত জীবন?

 

মেছোভূত - ভুত- ভুত- ভুত- ভুত জীবন।

 

আমি - কেন?

 

মেছোভূত - ছ্যাঃ ছ্যাঃ ওটা আবার একটা জীবন ছিল? হেথা যাবিনে, হোথা যাবিনে; এই কবিনে, ওই কবিনে; এই খাবিনে, ওই খাবিনে; এই করবিনে, ওই করবিনে; কত শত ঝামেলা, কত শত জ্বালা! এখনই দিব্যি আছি- বাধা নেই, নিষেধ নেই, কেউ বেশি কথা কইতে এলে মট্‌ করে দাও ঘাড় মটকে, ঝামেলা শেষ!

 

আমি - ওরে বাবা রে! তা তুমি কোন মাছ খেতে পছন্দ করো?

 

মেছোভূত - ওরে আমি মেছোভূত রে, মেছোভূত। আমি কোন মাছটা খাই না তাই বল। সব খাই, যে মাছই পাই, কপাৎ করে খেয়ে নিই। চেয়ে খাই, কেড়ে খাই, চুরি করে খাই, না পেলে ধরেই খাই- তবে ভাজাটা খেতে সবচাইতে ভালো লাগে, আহা! আহা!

 

আমি - আচ্ছা, এরপর কি করবে? মানে আমি চলে যাবার পর?

 

মেছোভূত - কেন, মাছ খুঁজতে বেড়োব!

 

আমি - এই গোটা মাছটা খাবার পরও আবার?

 

মেছোভূত - ধুশ্‌! ওরে, এ তো নশ্যি! আরও কত খেতে পারি।

 

আমি - ঠিক আছে, তবে আমার কথা শেষ। তুমিও যাও, আমিও বাড়ি যাই।

 

মেছোভূত - আচ্ছা বেশ।

 

(মেছো ভূত অদৃশ্য হয়, আমিও গিন্নিকে আর মাছ দিয়ে দর বাড়াতে পারলুম না একথা ভাবতে ভাবতে বাড়ির পথে এগোলুম।)

 

আরও পড়ুন - নানারকমের হাসির প্রকারভেদ নিয়ে রম্যরচনা ‘হাসি ক্লাসিফিকেশান’

অথবা পড়ুন - বিবাহিত পুরুষদের জন্যে লেখা একটি রম্যগল্প ‘রমণে? বুঝিবে শমনে’


<<Previous Article            <Main Introductory Page>            Next Article>>